আজ ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং

গর্ভবতী হাতিটি প্রান দিল মানুষকে বিশ্বাস করে

অনলাইন ডেস্ক: মানুষ যে কতটা নৃশংস হতে পারে, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা। একদিকে যখন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পশু হত্যা বন্ধের জন্য লড়াই করছেন পশুপ্রেমী সংগঠনগুলো, তখনই সমাজের আরেক অংশ চূড়ান্ত হিংস্র মনোভাব দেখাল এক হাতির প্রতি।

কেরলের সাইলেন্স ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক থেকে একটা হাতি এসেছিল খাদ্যের সন্ধানে কেরলের একটা গ্রামে। গ্রামবাসীরা হাতিটিকে একটা আনারস খেতে দেয়। এই অবলা প্রাণীটি সেই আনারস খেয়েও ফেলে। খাওয়ার পরেই বুঝতে পারে সৃষ্টির সেরা জীবকে বিশ্বাস করে সে কি ভুল করেছে। আনারসটির ভিতরে বাজি, বারুদ দিয়ে ভর্তি করা ছিল। তাই আনারসটি খাওয়ার সাথে সাথেই অসহ্য জ্বলনে রক্তাক্ত হয়ে উঠে তার সারা শরীর। বারুদ গুলো বিস্ফোরিত হতে থাকে তার শুঁড়সহ সারা শরীরে।

ফরেস্ট অফিসার মোহন যখন সংবাদ মাধ্যমকে বলেনঃ-

“ডাক্তার যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি জানান,—- ১৫ বছর বয়সী হাতিটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ”
কাঁপা গলায় আরও জানান,” যে হাতিটির মধ্যে একটা সিক্স সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও যেন কম হয়।
আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে। “

হাতিটি অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে ছুটাছুটি করেছে, কোথাও খাবার পায়নি। মানুষ তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেও সে মানুষের কোন ক্ষতি করেনি। গ্রামের কারো কোন ক্ষতি করেনি। মাঝনদীতে গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। কোন চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে সরানো যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Shares