আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

মুক্ত গনমাধ্যম দিবস আজ : ভালো সংবাদের খোঁজে একজন আহমদ গিয়াস

মাইনউদ্দিন হাসান শাহেদ
আজ মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। আন্তর্জাতিকভাবে এ দিনটি বেশ কয়েক বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। মুক্ত কথাটিতে রয়েছে বিশালতা। মানে স্বাধীনতা। আমাদের দেশের সংবাদিকতা ও সংবাদ মাধ্যম কতটা মুক্ত বা স্বাধীন, তা বিতর্কের বিষয়। এখন কিছু গণমাধ্যম একশ্রেণীর মানুষের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তবু কিছু গণমাধ্যম এখনও মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করছেন। সমাজের অসঙ্গতিগুলোর চেহারা প্রকাশ করে মানুষকে আলোর দিশা দেখাচ্ছেন। রাষ্ট্রকে সঠিক পথে হাটাতে ভূমিকা রাখছে। গণমাধ্যমে যারা জড়িত, তাদের নানা বঞ্চনা ও হতাশা রয়েছে। এরমধ্যেও আমাদের বাঁচতে হবে, বাঁচিয়ে রাখতে হবে গণমাধ্যমকে।
যাই হোক প্রতিদিন সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমে আমরা খারাপ খবর দেখতে ও পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে উঠেছি। ভালো খবরের পেছনে যেন কেউ ছুঁটছে না। কিন্তু কেন? আমরা পাঠকেরা তো একটু সুসংবাদ বা আশার কথা শুনতে চাই। হতাশার মধ্যেও একটু আলো দেখলে মানুষ ভরসা পায়। ঠিক তাই। করোনার বন্দী দশায় বেশ কিছু আশা জাগানিয়া সংবাদের খবর জানালেন কক্সবাজারের সাংবাদিক আহমদ গিয়াস। প্রকৃতি ও পরিবেশের অকৃত্রিম বন্ধু অগ্রজ সাংবাদিক আহমদ গিয়াস দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের গবেষণায় নিজের মনোনিবেশ ধরে রেখেছেন। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। বরং তিনি যে দিশা, পরিকল্পনা ও আমাদের সৈকতের যে বায়োশিল্ড বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা দিয়েছেন- তাই এগিয়ে নিতে আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
আমিও দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় ছিলাম। সে সুবাদে তার সঙ্গে আমার মেলামেশা ও জানাশোনা। প্রায় সাড়ে চারবছর আগে এ পেশা ছেড়েছি। তবু গিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বরাবরই রয়ে যায়। সাংবাদিকতা করার সময় পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এতে আনন্দ পেতাম, এখনো পাই। তাই এসব বিষয়ে খোঁজ নিই, খবর রাখি। এ নিয়ে প্রবল আগ্রহ কাজ করে।
এরকম ভাবনা থেকেই গতকাল শনিবার লকডাউনের ভেতর দিয়ে ছুঁটে যাই আহমদ গিয়াসের দরিয়া নগরের কুঠিরে। টমটম থেকে নেমেই রাস্তায় পেয়ে গেলাম তাকে। অনেকদিন পর দেখা। কি পরম সহানুভূতি, হৃদ্যতা। মনে হলো কত বছর পর দেখা। শুরুতেই করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে সমুদ্রের পথে হাঁটা শুরু করলাম। বাহ্ রাস্তা থেকে নামতেই চোখে পড়লো বিশাল আকারের সাইনবোর্ড। এ সাইনবোর্ডে রয়েছে সাগরের বালিয়াড়ি তৈরিতে সাগরলতা উদ্ভিদের নানা বিবরণ।
সাইনবোর্ডের সূত্র দিয়েই সাগরলতা-বালিয়াড়ির স্বপ্নদ্রষ্টা গিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে শুরু হলো আলাপচারিতা। তিনি সমুদ্র সৈকত নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ও প্রস্তাবণার কথা জানালেন। বেশ উৎসাহ পেলাম। রাতে বাসায় এসে এ নিয়ে নানা চিন্তাও উঁকিঝুঁকি মারলো। মনে হলো আসলেই তো সবার এগিয়ে আসা দরকার।


আজ সকালে ঘুম থেকে উঠিউঠি ভাব। সকাল গড়িয়ে দুপুর। বাইরে বৃষ্টিস্নাত রোদ। ভালোই লাগছে। বিছানা ছাড়তে চাচ্ছেনা মন। এমন সময় প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাগরলতা নিয়ে প্রকাশিত একটি ভালো খবরের কথা জানালেন আমার সহধর্মিণী। সে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ছাত্রী। সেও খুব মন দিয়ে পড়লো। আমাকে গিয়াস ভাইয়ের কৃতিত্বের কথা জানালো। বেশ সুখপাঠ্য লেখাটি মনোযোগ দিয়ে আমিও পড়লাম। এত ব্যস্ততার মাঝেও মাননীয় জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এত ভালো একটি লেখা আমাদের উপহার দিয়েছেন। লেখায় তিনি সমুদ্রের বালিয়াড়ি রক্ষা ও বায়োশিল্ড বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বরাবরই একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন। তাই তাঁর এ লেখায় আমাদের আশা জাগিয়েছে। আশা রাখবো আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সূচিত এ প্রক্রিয়া যেন অব্যাহত থাকে।
আবার ফিরে যাই আহমদ গিয়াসের কথায়। তিনি করোনা কালে বেশকিছু সৃষ্টিশীল ও পরিবেশ- প্রতিবেশ নিয়ে লিখে আলোড়ন তুলেছেন। তার বেশির ভাগ লেখাই মানুষের প্রশংসা-মুগ্ধ হয়েছে। তার লেখায় ফুটে উঠেছে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আমরা কতটুকু অবহেলা করে এসেছি এবং আসছি! প্রকৃতিও আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তারাও জাগতে চায়, জাগাতে চায়। আহমদ গিয়াসের আলোচিত প্রতিবেদন থেকে সাগরলতা ও সমুদ্র সৈকতের আর্দশ বায়োশিল্ড বা জৈব প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিয়ে লেখা দুইটি আমাকে আন্দোলিত করেছে।
তাই আজকের মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানাতেই আমার এ প্রয়াস। আশা করি, এই ধরনের বিশ্লেষণধর্মী-গবেষণাধর্মী দিকনির্দেশনামূলক প্রস্তাবণাগুলো আমাদের আলোর দিশা খোঁজে দেবে।
লেখক : মাইনউদ্দিন হাসান শাহেদ, সিনিয়র সাংবাদিক, চকরিয়া, কক্সবাজার তারিখ: ৩ মে ২০২০ ইংরেজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Shares