আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

মাহে রমজানের গুরুত্ব ও মহিমা

ইউছুফ আরমান

রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন : বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম। [সূরা ইউনুস : ৫৮]। বছরের অন্যান্য মাসের মধ্যে মাহে রমযানের অবস্থান আলাদা। এ মাসের আছে এমন কিছু বিশিষ্টতা, যা অন্যান্য মাসের নেই। ঐসব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যতই চিন্তা করা যায় ততই এ মাসের মহিমা ও গুরুত্ব প্রকাশিত হয়।

আমাদের কর্তব্যঃ-
আল্লাহর এ অনুগ্রহের মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করা, এ মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়া ও ইবাদত-বন্দেগিসহ সকল কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকা।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতপ্রাপ্তিঃ-
এই রমজান মাসেই হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে রিসালাত প্রদান করা হয়েছিল। তিনি পেয়েছিলেন শেষ নবী ও শ্রেষ্ঠ নবীর অভিধান। আর আমরা তাঁর উম্মত হতে পেরে সর্বকালীন মানবতার শ্রেষ্ঠ উম্মতের সম্মান পেয়েছি। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানব কল্যাণের উদ্দেশে নির্বাচিত করা হয়েছে। (সূরা আল-ইমরান : ১১০)

পবিত্র কোরআন নাজিলঃ-
এই রমজানে বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ ‘আল-কোরআন’ নাজিল হয়েছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান হলো সে মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। মানবজাতির হেদায়েতের জন্য এবং হেদায়েত ও ভ্রষ্টতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রচনার জন্য। (সূরা আল-বাক্বারা : ১৮৫)

লাইলাতুল কদরঃ-
মাহে রমজানের গুরুত্বের অন্যতম দিকটি হলো লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর একটি মাত্র রাতের নাম হলেও তা গোটা মাসকেই মহিমান্বিত করে তুলেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি ইহা (কোরআন) নাজিল করেছি কদরের রাতে। আপনি জানেন কি, কদরের রাত কী? কদরের রাত এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ (জিবরাইল আ.) প্রত্যেক কাজের জন্য তাদের পালনকর্তার নির্দেশসহ অবতীর্ণ হন। রাতটি ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত কল্যাণময়।’ শবেকদরের ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একবার রমজান মাসের আগমন হলে রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন, হে লোক সকল, তোমাদের নিকট রমজান মাস আগমন করেছে। এটি অত্যন্ত বরকতময় একটি মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন।

রোজার প্রতিদানঃ-
বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (স.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ সমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, সিয়াম এবং কোরআন হাশরের ময়দানে বান্দা–বান্দীর জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ্ তাআলা তাঁদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) আরও বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) বর্ণনা করেন, প্রত্যেক বস্তুর জাকাত রয়েছে, তেমনি শরীরেরও জাকাত আছে, আর শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা পালন করা। অর্থাৎ জাকাতদানে যেভাবে মালের পবিত্রতা অর্জন হয়, তেমনি রোজা পালনের মাধ্যমে শরীর পবিত্র হয়, গুনাহ মুক্ত হয়।

রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজাঃ-
হজরত সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্যরাও এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে। কিন্তু রোজাদার ব্যতীত অন্য কাউকে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। (বুখারি ও মুসলিম)।

রোজাদারের জন্য আনন্দঃ-
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে, একটি তার ইফতারের সময়, অপরটি হলো আল্লাহ্ তাআলার দিদার বা সাক্ষাতের সময়। হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সময়। আল্লাহ্ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। আর এই সময়ের দোয়া হচ্ছে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিয়াত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি জুনুবি।’

বস্তুত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণ অর্জন ও পরকালীন কল্যাণ অর্জন মহান আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যান্য সুযোগ নিয়ে আসে পবিত্র মাহে রমজান। মাহে রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা অনন্য ও অতুলনীয়। এর অবদান বহুমাত্রিক ও সর্বজনীন। মহান আল্লাহ আমাদের এ কল্যাণ অর্জনের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক পরিচিতিঃ- ইউছুফ আরমান, কলামিষ্ট, সাহিত্যিক, শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ফাজিল, কামিল, বি.এ অনার্স, এম.এ, এল.এল.বি, দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী, বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়, ০৬ নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার। ০১৬১৫৮০৪৩৮৮, ০১৮১৫-৮০৪৩৮৮
yousufarmancox@gamil.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Shares