আম চারার সাথে বন বিভাগের এ কেমন শত্রুতা- বাকরুদ্ধ বাগান মালিক!

সংবাদদাতা:

বিগত ৫০ বছর আগে ভিলেজার হিসেবে বন বিভাগ থেকে রিজার্ভ জমি পেয়েছিল ঈদগাঁও কালির ছড়া এলাকার মাশুকুর রহমান। দীর্ঘ বছর সেখানে ধান চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছিল। ইত্যবসরে মারা যান মাশুকুর রহমান, হাল ধরেন তার ছেলে মোহাম্মদ শাহ আলম। শাহ আলমও বেশ কয়েক মৌসুম ধান চাষ করেন। সম্প্রতি পানির তীব্র সংকট এবং জমি গুলো ধান চাষের অনুপযোগী হওয়ায় ফলজ বাগান করার মনস্থির করেন। বিগত ২ বছর পূর্বে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেন আম রূপালী, লেবু, পেঁয়ারা বাগান। বড় হতে থাকে আম চারা গুলো। বছর খানেক পরই ফল আসত এই চারা গুলোতে, কুলও আসছিল কিছু কিছু চারায়। গাছ যত বড় হচ্ছে ততই লোভ সামলাতে পারছে না বন বিভাগ। ফন্দি আঁকে কৃষক শাহ আলমকে উচ্ছেদ করতে।স্থানীয় নেছার নামের এক ভিলেজারের মাধ্যমে খবর পাঠানো হয় মোটা অংকের টাকা টাকা দিতে। কিন্তু অসহায় দরিদ্র শাহ আলম চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কয়েকবার হুমকি দেওয়া হয় শাহ আলমকে। তিনি বার বার জমি গুলো তার বাবা ভিলেজার সূত্রে পাওয়া দাবী করে আসলেও মন গলেনি বন বিভাগে কর্মকর্তাদের। চাঁদা না পেয়ে আজ ২২ মার্চ রবিবার কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের মেহের ঘোনা রেঞ্জের মাছুয়া খালী বন বিটের কর্মকর্তা উজ্জল মজুমদারের নেতৃত্বে ১০/১২ জন স্টাফ দলবদ্ধভাবে ঈদগাঁও কালির ছড়া এলাকার পূর্বে বীচি ঘোনা নামক স্থানে বাগানে গিয়ে ২ বছর বয়সী ২ শতাধিক আম চারা, লেবু চারা ও পেয়ারা চারা কেটে দেয়। খবর পেয়ে বাগান মালিক শাহ আলম ঘটনাস্থলে গেলে বাকরুদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঐ বাগানে কুল আসছে এমন ২ শতাধিক আম চারা গোড়া থেকে কেটে পেলেছে, তাছাড়া ঘেরাবেড়াও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বন বিভাগের এমন হিংস্রতার খবর পেয়ে স্থানীয়রা বাগানে গিয়ে মর্মাহত হয়ে পড়ে। নিন্দার ঝড় তুলেন প্রতিবেশীরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে
বাগান মালিক শাহ আলম বলেন, ১ নং খাস খতিয়ায়ের মাথা ঘিলায় গড়ে তোলা বাগানে আম চারা রোপন করলে বন বিভাগের লোকজন মোটা অংকের টাকা দাবী করে। না দেওয়ায় আজকে বাগানে এসে ফল আসন্ন আম রূপালী চারা গুলো কেটে দেয়। তিনি দাবী করেন কেটে দেওয়া বাগানে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগান করেছি, এই ঋণের টাকা কি ভাবে শোধ করব? বাগান মালিক শাহ আলম বলেন,স্থানীয় ভিলেজার নেছারের ইন্দনে আমার বাগান কেটে দেওয়া হয়েছে। বাগানের চারা কেটে দেওয়ার সংবাদ এলাকায় চাউর হলে ক্ষুব্ধ জনতা ফুঁসে উঠে বলেন জমি গুলো বন বিভাগের হলে কথাবার্তার মাধ্যমে তুলে দিতে পারত। তা না করে চারা গুলোর সাথে এ কেমন শত্রুতা? এ কেমন আচরণ! পরিবেশবাদীরাও জোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে জমি রিজার্ভ হলে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নিতে পারত, কিন্তু তা না করে কচি কচি আম চারার সাথে এমন করলো কেন খতিয়ে দেখা হোক।স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাহমুদুল হাসান মিনার বলেন, ব্যক্তি অপরাধ করলে আইনের আওতায় আনা যেত, সেটা না করে ফল গাছের চারার সাথে অমানবিক আচরণ করেছে। স্থানীয় সমাজ সেবক ও যুবনেতা জামিল উদ্দীন শামও একই কথা বললেন। জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা উজ্জ্বল মজুমদার বলেন, শাহ আলমকে একাধিক বার জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল,না দেয়ায় চারা গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।চাঁদা দাবীর বিষয়টি সত্য নয়। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমি গুলো বন বিভাগের,শাহ আলমের বাবা ভিলেজার থাকার সুবাদে কিছু জমি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ জমির পাশে আরো কিছু জমি অবৈধভাবে দখলে নেয় শাহ আলম। তাকে বার বার সরে যেতে বলা হলেও তিনি সরেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ডুলাহাজারায় ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

» চকরিয়ায় বসতঘরে হামলা লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ: মহিলাসহ আহত- ৩

» লামা পৌরসভায় সরকারি খাদ্যশস্য পেল নিম্ন আয়ের মানুষ

» ঈদগাঁওতে মক্কা প্রবাসী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে একশত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» সাবেক ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু আর নেই

» ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা ছাত্রদলের জীবাণুনাশক স্প্রে, মাস্ক ও সাবান বিতরণ

» তারেক রহমানের নির্দেশে ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরন

» তারেক রহমানের নির্দেশে হরিনাকুন্ডুতে ছাত্রদলের জীবাণুনাশক স্প্রে : মসিউর রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা

» সরকারের নির্দেশ মানছেনা চকরিয়া ও ফাইতংয়ের ৩৫ টি ইটভাটা: করোনা ঝুঁকিতে কাজ করছে ১০ হাজার শ্রমিক

» চকরিয়ায় করোনা সচেতনতায় মা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ

উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Desing & Developed BY ZihadIT.Com
,

আম চারার সাথে বন বিভাগের এ কেমন শত্রুতা- বাকরুদ্ধ বাগান মালিক!

সংবাদদাতা:

বিগত ৫০ বছর আগে ভিলেজার হিসেবে বন বিভাগ থেকে রিজার্ভ জমি পেয়েছিল ঈদগাঁও কালির ছড়া এলাকার মাশুকুর রহমান। দীর্ঘ বছর সেখানে ধান চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছিল। ইত্যবসরে মারা যান মাশুকুর রহমান, হাল ধরেন তার ছেলে মোহাম্মদ শাহ আলম। শাহ আলমও বেশ কয়েক মৌসুম ধান চাষ করেন। সম্প্রতি পানির তীব্র সংকট এবং জমি গুলো ধান চাষের অনুপযোগী হওয়ায় ফলজ বাগান করার মনস্থির করেন। বিগত ২ বছর পূর্বে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেন আম রূপালী, লেবু, পেঁয়ারা বাগান। বড় হতে থাকে আম চারা গুলো। বছর খানেক পরই ফল আসত এই চারা গুলোতে, কুলও আসছিল কিছু কিছু চারায়। গাছ যত বড় হচ্ছে ততই লোভ সামলাতে পারছে না বন বিভাগ। ফন্দি আঁকে কৃষক শাহ আলমকে উচ্ছেদ করতে।স্থানীয় নেছার নামের এক ভিলেজারের মাধ্যমে খবর পাঠানো হয় মোটা অংকের টাকা টাকা দিতে। কিন্তু অসহায় দরিদ্র শাহ আলম চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কয়েকবার হুমকি দেওয়া হয় শাহ আলমকে। তিনি বার বার জমি গুলো তার বাবা ভিলেজার সূত্রে পাওয়া দাবী করে আসলেও মন গলেনি বন বিভাগে কর্মকর্তাদের। চাঁদা না পেয়ে আজ ২২ মার্চ রবিবার কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের মেহের ঘোনা রেঞ্জের মাছুয়া খালী বন বিটের কর্মকর্তা উজ্জল মজুমদারের নেতৃত্বে ১০/১২ জন স্টাফ দলবদ্ধভাবে ঈদগাঁও কালির ছড়া এলাকার পূর্বে বীচি ঘোনা নামক স্থানে বাগানে গিয়ে ২ বছর বয়সী ২ শতাধিক আম চারা, লেবু চারা ও পেয়ারা চারা কেটে দেয়। খবর পেয়ে বাগান মালিক শাহ আলম ঘটনাস্থলে গেলে বাকরুদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঐ বাগানে কুল আসছে এমন ২ শতাধিক আম চারা গোড়া থেকে কেটে পেলেছে, তাছাড়া ঘেরাবেড়াও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বন বিভাগের এমন হিংস্রতার খবর পেয়ে স্থানীয়রা বাগানে গিয়ে মর্মাহত হয়ে পড়ে। নিন্দার ঝড় তুলেন প্রতিবেশীরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে
বাগান মালিক শাহ আলম বলেন, ১ নং খাস খতিয়ায়ের মাথা ঘিলায় গড়ে তোলা বাগানে আম চারা রোপন করলে বন বিভাগের লোকজন মোটা অংকের টাকা দাবী করে। না দেওয়ায় আজকে বাগানে এসে ফল আসন্ন আম রূপালী চারা গুলো কেটে দেয়। তিনি দাবী করেন কেটে দেওয়া বাগানে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগান করেছি, এই ঋণের টাকা কি ভাবে শোধ করব? বাগান মালিক শাহ আলম বলেন,স্থানীয় ভিলেজার নেছারের ইন্দনে আমার বাগান কেটে দেওয়া হয়েছে। বাগানের চারা কেটে দেওয়ার সংবাদ এলাকায় চাউর হলে ক্ষুব্ধ জনতা ফুঁসে উঠে বলেন জমি গুলো বন বিভাগের হলে কথাবার্তার মাধ্যমে তুলে দিতে পারত। তা না করে চারা গুলোর সাথে এ কেমন শত্রুতা? এ কেমন আচরণ! পরিবেশবাদীরাও জোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে জমি রিজার্ভ হলে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নিতে পারত, কিন্তু তা না করে কচি কচি আম চারার সাথে এমন করলো কেন খতিয়ে দেখা হোক।স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাহমুদুল হাসান মিনার বলেন, ব্যক্তি অপরাধ করলে আইনের আওতায় আনা যেত, সেটা না করে ফল গাছের চারার সাথে অমানবিক আচরণ করেছে। স্থানীয় সমাজ সেবক ও যুবনেতা জামিল উদ্দীন শামও একই কথা বললেন। জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা উজ্জ্বল মজুমদার বলেন, শাহ আলমকে একাধিক বার জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল,না দেয়ায় চারা গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।চাঁদা দাবীর বিষয়টি সত্য নয়। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমি গুলো বন বিভাগের,শাহ আলমের বাবা ভিলেজার থাকার সুবাদে কিছু জমি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ জমির পাশে আরো কিছু জমি অবৈধভাবে দখলে নেয় শাহ আলম। তাকে বার বার সরে যেতে বলা হলেও তিনি সরেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Design & Developed BY ZahidITLimited