আজ ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

এশিয়ায় ‘দ্য ওয়াল’ বলা হচ্ছে বাংলাদেশের যে গোলরক্ষককে


ক্রীড়া প্রতিবেদক,
তিনটি পেনাল্টি সেভ করে এএফসির সপ্তাহসেরা তালিকায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান

টাইব্রেকার-পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি ছিল আলী আশফাককে ঘিরে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে হয়েছে অন্য ‘প্রশ্ন’ ঈশা ইসমাইলের সামনে। তবু ‘লেটার মার্কস’ নিয়ে উতরে গেছেন বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান।

বুধবার এএফসি কাপে মালদ্বীপের ক্লাব টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে অভিষেক ঘটে আনিসুর রহমান ও তাঁর দল বসুন্ধরার। দল পেয়েছে পেয়েছে ৫-১ গোলের বড় জয়। আনিসুর সেভ করেছেন তিনটি পেনাল্টি। সে সুবাদেই বাংলাদেশের তরুণ এই গোলরক্ষকের নাম উঠে এসেছে এএফসি কাপের সপ্তাহসেরা ৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকায়। এক ম্যাচে ৩টি পেনাল্টি সেভের বিষয়টি উল্লেখ করে এএফসি তাদের ওয়েবসাইটে আনিসুরকে ‘দ্য ওয়াল’ বলেছে। সেখানে আছেন ৪ গোল করা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান বার্কোসও। ভোটের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে সেরাকে।

সেদিন কেমন ছিল জিকোর পেনাল্টি সেভ?

বসুন্ধরা এক গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ১৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় টিসি। প্রথম প্রচেষ্টায় রুখে দিলেও ফিরতি বলে ভলিতে জালে জড়ান ইসমাইল। ২-১ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে আবার পেনাল্টি পায় টিসি। এবার দ্বিতীয় দফা পেনাল্টি বাঁচান আনিসুর। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে প্রথম শট রুখে দিলেও গোল লাইনের সামনে চলে আসার অপরাধে পুনরায় শটের সুযোগ পায় মালদ্বীপের ক্লাব। এবারও ঈসমাইলের নেওয়া শট বাঁ দিকে ঝাঁপ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি।

সেই তিনটি সেভের পেছনের গল্প প্রথম আলোকে শোনালেন আনিসুর । সেখানে উঠে এল আলী আশফাকের বিষয়টিও, ‘আসলে আমি তো ভিডিও দেখে আলী আশফাকের নেওয়া পেনাল্টি সেভের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ওর (ইসমাইল) ব্যাপারে আমার তেমন জানা ছিল না। প্রথমার্ধে যে সেভ দিয়েছি, ওর দাঁড়ানো দেখেই বুঝেছিলাম ও এখানেই মারবে।’ দ্বিতীয়ার্ধের দুই সেভ নিয়ে জিকো বলেন, ‘ওর ভাব দেখেই মনে হচ্ছিল ডান দিকে মারবে। প্রথমটা সেভ দেওয়ার পর দ্বিতীয়বারও চাপে ছিল। তাই আন্দাজ করতে পারি এবার জায়গা বদলে মারবে।’

আনিসুর বরাবরই স্পট কিকের সামনে দুর্দান্ত। এর আগে ২০১৮ সালের স্বাধীনতা কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে রহমতগঞ্জের তিনটি এবং সেমিফাইনালে আবাহনীর দুটি টাইব্রেকার শট ঠেকিয়েছিলেন। আর এবার ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও টাইব্রেকারে মুক্তিযোদ্ধার দুটি শট ঠেকিয়েছেন কক্সবাজারের এই তরুণ গোলরক্ষক।

বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও এখনো মাঠে নামা হয়নি ২২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের। স্পটকিক মানেই প্রায় ৯৯ ভাগ গোলের সুযোগ। কিন্তু বারবার এই স্পটকিক ঠেকানোর পেছনের রহস্য কী? আনিসুরের মুখ থেকেই শুনুন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই টাইব্রেকারে গোলপোস্টে দাঁড়াই। যে শট নেয়, তাঁর পা দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। এ ছাড়া ভাগ্যের সহায়তা আছে।’

সূত্র: প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Shares