গোল মরিচের চাষ করে সাফল্য দেখছেন মিরসরাইয়ের একদল কৃষাণী

বশির আল মামুন,চট্টগ্রাম
মসলা জতীয় খাবারের মধ্যে গোল মরিছ অন্যতম। বিরানী, কোরমা, পোলাও সহ রসনা জাতীয় খাবার গোল মরিচ ছাড়া হয়না। তাই এসব খাবার রান্নার জন্য গোল মরিচ থাকতেই হবে। না হয় সেই খাবার হবে অতৃপ্ত। এমই একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা গুল মরিচের চাষ বায়লাদেশে হয় না বিধায় আমাদের নির্ভর করতে হয় ভারত সহ বিভিন্ন দেশের উপর। তবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে এবারে সেটি দেখিয়ে দিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একদল প্রান্তিক চাষী। তারা এখন মিরসরাইয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে মসলা জাতীয় ফসল গোলমরিচ চাষ করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে । বর্তমানে পাহাড়ের ঢালে গোল মরিচের চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বহু কৃষাণী। ইতিমধ্যে লাগানো গোলমরিচের গাছে ফুল ও ফলে ভরে গেছে। শিগগিরই ফলন পাওয়া যাবে আশাবাদী এসব কৃষাণীদের।
সরজমিনে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মালতী, ময়ূরী ত্রিপুরাসহ কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসী কৃষাণী মসলা জাতীয় গোলমরিচ চাষ করেছেন। প্রায় ২৫ শতক জমি জুড়ে ১২০টি সিমেন্টের খুঁটিতে রয়েছে গোলমরিচের চারা। প্রতি খুঁটিতে চারটি করে চারা লাগনো হয়েছে। জমিতে গোলমরিচের পাশাপাশি হলুদ, আদা, ও মৌসুমি সবজির চাষ করা হয়েছে।
মালতী ত্রিপুরা জানান, তার ২৫ শতক জমি অনাবাদি ছিল। এক বছর আগে বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা অপকার কর্মকর্তা গৌতম বিশ্বাস পরিত্যক্ত জমিতে গোলমরিচ চাষে উৎসাহিত করেন। সেই থেকে জমির পরিচর্যা শুরু করে লাগানো হয় গোলমরিচের চারা। কয়েকটি চারায় এরইমধ্যে ফুল ও ফল আসা শুরু করেছে। গোলমরিচ চাষের জন্য অপকার পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা ও খুঁটি দেয়া হয়েছে বলে জানান মালতী।
মালতী ত্রিপুরার স্বামী শ্রীকান্ত ত্রিপুরা জানান, আদিবাসীরা এক সময় পাহাড়ে জুমসহ বিভিন্ন চাষাবাদের উপর নির্ভশীল ছিল। এখন জুম চাষ করার মতো পাহাড় নেই। জীবিকার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে তাদের। তাই বিকল্প হিসেবে গোলমরিচের চাষ চাষ করছি। পাশাপাশি আদা চাষ করে চলতি বছর ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি।
কৃষাণী ময়ূরী ত্রিপুরা জানান, অপকার সহযোগিতায় তিনিও ২৫ শতক জমিতে গোলমরিচ চাষ করেছেন। আশা করছেন চলতি বছরের শেষ দিকে গোলমরিচ গাছ থেকে ফলন তুলতে পারবেন। এরপর সেগুলো বাজাতজাত করতে পারবেন। তবে ময়ূরী ত্রিপুরা আরো জানান, গোলমরিচ চাষে একটু অসুবিধাও রয়েছে। অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না বলে গোলমরিচ চারাগুলো পাহাড়ি ঢালু জমিতে লাগাতে হয়। কিন্তু পাহাড়ের ক্ষেতে সেচ দেয়ায় সমস্যা হয়। আবার ঠিকভাবে সেচ দিতে না পারলে অল্প দিনেই চারা গাছ মরে যায়।
অপকার ভেলুচেঞ্জ ফ্যাসিলিটি কর্মকর্তা ও গোলমরিচ চাষ প্রকল্পের সমন্বয়ক গৌতম বিশ্বাস জানান, অপকার গোলমরিচ চাষের এটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরইমধ্যে মিরসরাই ও ফটিকছড়ির ২০টি গরীব পরিবারকে গোলমরিচ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। ২৫ শতক জমিতে গোলমরিচ চাষ ও পরিচর্যায় প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হবে। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করে, যা একটানা ১৫ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি খুঁটি থেকে বছরে কমপক্ষে চার কেজি কাঁচা গোলমরিচ পাওয়া যাবে। চার কেজি শুকালে দেড় থেকে দুই কেজি গোলমরিচ পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি গোলমরিচের আনুমানিক মূল্য ৮০০ টাকা। এভাবে একটি জমি থেকে বছরে প্রায় ৫০ কেজি গোলমরিচ পাওয়া যাবে। এরপর কাটিং পদ্ধতিতে চারা বিক্রি করেও তারা বাড়তি আয় করা যাবে।
অপকার নির্বাহী পরিচালক মো. আলমগীর বলেন, মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার দরিদ্র ২০টি পরিবারকে গোলমরিচ ক্ষেত করে দেয়া হয়েছে। অপকার পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, ১২৫টি খুঁটি ও ৫০০টি চারা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দুই উপজেলায় ১২০০ কৃষককে গোলমরিচ চাষের আওতায় আনা হবে।
মিরসরাইয়ের স্থানীয় চাষীরা জানান সেব নারীরা ইতিমধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে গোল মরিচের চাষ করছেন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় সিদিকে সরকারের দৃস্টি দেয়া দরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ডুলাহাজারায় ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

» চকরিয়ায় বসতঘরে হামলা লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ: মহিলাসহ আহত- ৩

» লামা পৌরসভায় সরকারি খাদ্যশস্য পেল নিম্ন আয়ের মানুষ

» ঈদগাঁওতে মক্কা প্রবাসী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে একশত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» সাবেক ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু আর নেই

» ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা ছাত্রদলের জীবাণুনাশক স্প্রে, মাস্ক ও সাবান বিতরণ

» তারেক রহমানের নির্দেশে ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরন

» তারেক রহমানের নির্দেশে হরিনাকুন্ডুতে ছাত্রদলের জীবাণুনাশক স্প্রে : মসিউর রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা

» সরকারের নির্দেশ মানছেনা চকরিয়া ও ফাইতংয়ের ৩৫ টি ইটভাটা: করোনা ঝুঁকিতে কাজ করছে ১০ হাজার শ্রমিক

» চকরিয়ায় করোনা সচেতনতায় মা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ

উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Desing & Developed BY ZihadIT.Com
,

গোল মরিচের চাষ করে সাফল্য দেখছেন মিরসরাইয়ের একদল কৃষাণী

বশির আল মামুন,চট্টগ্রাম
মসলা জতীয় খাবারের মধ্যে গোল মরিছ অন্যতম। বিরানী, কোরমা, পোলাও সহ রসনা জাতীয় খাবার গোল মরিচ ছাড়া হয়না। তাই এসব খাবার রান্নার জন্য গোল মরিচ থাকতেই হবে। না হয় সেই খাবার হবে অতৃপ্ত। এমই একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা গুল মরিচের চাষ বায়লাদেশে হয় না বিধায় আমাদের নির্ভর করতে হয় ভারত সহ বিভিন্ন দেশের উপর। তবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে এবারে সেটি দেখিয়ে দিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একদল প্রান্তিক চাষী। তারা এখন মিরসরাইয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে মসলা জাতীয় ফসল গোলমরিচ চাষ করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে । বর্তমানে পাহাড়ের ঢালে গোল মরিচের চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বহু কৃষাণী। ইতিমধ্যে লাগানো গোলমরিচের গাছে ফুল ও ফলে ভরে গেছে। শিগগিরই ফলন পাওয়া যাবে আশাবাদী এসব কৃষাণীদের।
সরজমিনে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মালতী, ময়ূরী ত্রিপুরাসহ কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসী কৃষাণী মসলা জাতীয় গোলমরিচ চাষ করেছেন। প্রায় ২৫ শতক জমি জুড়ে ১২০টি সিমেন্টের খুঁটিতে রয়েছে গোলমরিচের চারা। প্রতি খুঁটিতে চারটি করে চারা লাগনো হয়েছে। জমিতে গোলমরিচের পাশাপাশি হলুদ, আদা, ও মৌসুমি সবজির চাষ করা হয়েছে।
মালতী ত্রিপুরা জানান, তার ২৫ শতক জমি অনাবাদি ছিল। এক বছর আগে বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা অপকার কর্মকর্তা গৌতম বিশ্বাস পরিত্যক্ত জমিতে গোলমরিচ চাষে উৎসাহিত করেন। সেই থেকে জমির পরিচর্যা শুরু করে লাগানো হয় গোলমরিচের চারা। কয়েকটি চারায় এরইমধ্যে ফুল ও ফল আসা শুরু করেছে। গোলমরিচ চাষের জন্য অপকার পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা ও খুঁটি দেয়া হয়েছে বলে জানান মালতী।
মালতী ত্রিপুরার স্বামী শ্রীকান্ত ত্রিপুরা জানান, আদিবাসীরা এক সময় পাহাড়ে জুমসহ বিভিন্ন চাষাবাদের উপর নির্ভশীল ছিল। এখন জুম চাষ করার মতো পাহাড় নেই। জীবিকার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে তাদের। তাই বিকল্প হিসেবে গোলমরিচের চাষ চাষ করছি। পাশাপাশি আদা চাষ করে চলতি বছর ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি।
কৃষাণী ময়ূরী ত্রিপুরা জানান, অপকার সহযোগিতায় তিনিও ২৫ শতক জমিতে গোলমরিচ চাষ করেছেন। আশা করছেন চলতি বছরের শেষ দিকে গোলমরিচ গাছ থেকে ফলন তুলতে পারবেন। এরপর সেগুলো বাজাতজাত করতে পারবেন। তবে ময়ূরী ত্রিপুরা আরো জানান, গোলমরিচ চাষে একটু অসুবিধাও রয়েছে। অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না বলে গোলমরিচ চারাগুলো পাহাড়ি ঢালু জমিতে লাগাতে হয়। কিন্তু পাহাড়ের ক্ষেতে সেচ দেয়ায় সমস্যা হয়। আবার ঠিকভাবে সেচ দিতে না পারলে অল্প দিনেই চারা গাছ মরে যায়।
অপকার ভেলুচেঞ্জ ফ্যাসিলিটি কর্মকর্তা ও গোলমরিচ চাষ প্রকল্পের সমন্বয়ক গৌতম বিশ্বাস জানান, অপকার গোলমরিচ চাষের এটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরইমধ্যে মিরসরাই ও ফটিকছড়ির ২০টি গরীব পরিবারকে গোলমরিচ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। ২৫ শতক জমিতে গোলমরিচ চাষ ও পরিচর্যায় প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হবে। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল আসতে শুরু করে, যা একটানা ১৫ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি খুঁটি থেকে বছরে কমপক্ষে চার কেজি কাঁচা গোলমরিচ পাওয়া যাবে। চার কেজি শুকালে দেড় থেকে দুই কেজি গোলমরিচ পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি গোলমরিচের আনুমানিক মূল্য ৮০০ টাকা। এভাবে একটি জমি থেকে বছরে প্রায় ৫০ কেজি গোলমরিচ পাওয়া যাবে। এরপর কাটিং পদ্ধতিতে চারা বিক্রি করেও তারা বাড়তি আয় করা যাবে।
অপকার নির্বাহী পরিচালক মো. আলমগীর বলেন, মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার দরিদ্র ২০টি পরিবারকে গোলমরিচ ক্ষেত করে দেয়া হয়েছে। অপকার পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, ১২৫টি খুঁটি ও ৫০০টি চারা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দুই উপজেলায় ১২০০ কৃষককে গোলমরিচ চাষের আওতায় আনা হবে।
মিরসরাইয়ের স্থানীয় চাষীরা জানান সেব নারীরা ইতিমধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে গোল মরিচের চাষ করছেন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় সিদিকে সরকারের দৃস্টি দেয়া দরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Design & Developed BY ZahidITLimited