গণতন্ত্রের মানস কন্যার একটি ইতিহাস ও গণতন্ত্র মুক্তি

মো: নাজমুল হুদা:

৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস বা গণতন্ত্র মুক্তি দিবস। ২৯ বছর আগে ১৯৯০ সালের এ দিনে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন স্বৈরাচার এরশাদ। প্রবল আন্দোলনের সামনে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তার ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। দ্বিতীয়বার গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জনসাধারণের কাছে দিনটি পরিচিতি পায় ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা এসেছিলেন। কিন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে সাধারণ মানুষ আর নেতাকর্মীদের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের ফলে ১৯৯০ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এরশাদ।

১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে সেখান থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে তার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন। তাঁকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। তাঁকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়।

কিন্তু কোনভাবেই তিনি থেমে থাকেননি গণতন্ত্রের মানসকন্যা। জীবনের মায়া ত্যাগ করে কাজ করে গেছেন দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য। ফলে ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাঁকে দু’বার গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২রা মার্চ তাঁকে আটক করে প্রায় ৩ মাস গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১১ নভেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করে এক মাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়ে গৃহবন্দী হন। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়।

কিন্তু কারা অভ্যন্তরেই বসে তিনি তার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন আদেশ নির্দেশ পাঠাতে থাকেন। তার নির্দেশে চলতে থাকে আন্দোলন, এতে শহীদ হন নূর হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ই নভেম্বরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ”আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।”

এই ঘটনার পর পর ৯০ এর আন্দোলন আরো জোরদার হয়ে ওঠে সেই সময়। যার ফলে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালের এইদিনে গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন শাসক এরশাদ। এরমধ্য দিয়ে এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়। ১৯৯০ সালের আন্দোলন একটি গণ আন্দোলন হলেও এর মূল চালিকা শক্তি ছিলেন বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দৃঢ নেতৃত্ব, ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মুক্তি সম্ভব হয়েছিল সেদিন।

লেখক: সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনর নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার প্রচারণা

» চান্দগাঁও থানার নতুন ওসি হলেন টেকনাফের সাবেক ওসি আতাউর রহমান

» সিরাজদিখানে পিঠা উৎসব

» শাহজাদপুরে ২৫ টি অবৈধ ড্রেজার বন্ধের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর সাংবাদিকদের চিঠি

» ফুলবাড়ীতে মাদক নির্মূলে নবাগত ওসির মত বিনিময়

» মেয়র জাহিদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে মরিয়া প্রভাবশালী একটি মহল!

» সিরাজদিখান থানায় ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত

» চকরিয়া খুটাখালীতে মহাসড়কের ফুটপাত দখল, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ!

» ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের বুকে গুলি চালালো পুলিশ সদস্য

» ফুলবাড়ীতে দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠান

উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Desing & Developed BY ZihadIT.Com
,

গণতন্ত্রের মানস কন্যার একটি ইতিহাস ও গণতন্ত্র মুক্তি

মো: নাজমুল হুদা:

৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস বা গণতন্ত্র মুক্তি দিবস। ২৯ বছর আগে ১৯৯০ সালের এ দিনে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন স্বৈরাচার এরশাদ। প্রবল আন্দোলনের সামনে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তার ৯ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। দ্বিতীয়বার গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জনসাধারণের কাছে দিনটি পরিচিতি পায় ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ হিসেবে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা এসেছিলেন। কিন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে সাধারণ মানুষ আর নেতাকর্মীদের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের ফলে ১৯৯০ সালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এরশাদ।

১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে সেখান থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে তার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন। তাঁকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। তাঁকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়।

কিন্তু কোনভাবেই তিনি থেমে থাকেননি গণতন্ত্রের মানসকন্যা। জীবনের মায়া ত্যাগ করে কাজ করে গেছেন দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য। ফলে ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাঁকে দু’বার গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২রা মার্চ তাঁকে আটক করে প্রায় ৩ মাস গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১১ নভেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করে এক মাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়ে গৃহবন্দী হন। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়।

কিন্তু কারা অভ্যন্তরেই বসে তিনি তার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন আদেশ নির্দেশ পাঠাতে থাকেন। তার নির্দেশে চলতে থাকে আন্দোলন, এতে শহীদ হন নূর হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ই নভেম্বরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ”আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।”

এই ঘটনার পর পর ৯০ এর আন্দোলন আরো জোরদার হয়ে ওঠে সেই সময়। যার ফলে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালের এইদিনে গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন শাসক এরশাদ। এরমধ্য দিয়ে এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়। ১৯৯০ সালের আন্দোলন একটি গণ আন্দোলন হলেও এর মূল চালিকা শক্তি ছিলেন বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দৃঢ নেতৃত্ব, ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মুক্তি সম্ভব হয়েছিল সেদিন।

লেখক: সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Design & Developed BY ZahidITLimited