অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে বিচার বিভাগের দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি অপরিহার্য


ইউছুফ আরমান
বর্তমান দেশের পরিস্থিতি খুব নাজুক। খুন-হত্যা-ধর্ষণ নিত্য দিনের ঘটনা। অথচ মানুষের আবেগ আর বিবেক লোপ পেয়েছে। মানুষের মনে হিংস্রতা এবং নৃশংসতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে মানুষের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যা কোন সভ্য সমাজের কাম্য বা প্রত্যাশা হতে পারে না। সম্প্রতিক ২০১৯ সালের আলোচিত ঘটনা নিয়ে আমার লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।
নুসরাত জাহান রাফি একজন বাংলাদেশী বালিকা, ৬ই এপ্রিল২০১৯ পরীক্ষা দিতে গেলে কয়েকজন বোরকা পড়া ব্যক্তি নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ই এপ্রিল বুধবার নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। ফেনীর সোনাগাজীতে একটি মাদ্রাসায় আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনাপ্রবাহ চারটি বিষয় সামনে এনেছে: এক নারীর যৌন নিপীড়ন, মাদ্রাসার ভেতরে অধ্যক্ষের দ্বারা ছাত্রীর যৌন নিপীড়ন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বহীন ভূমিকা এবং স্থানীয় রাজনীতির কলুষিত বৃত্তচক্র। এর প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে আমাদের মনোযোগ দাবি করে।
রিফাতের সঙ্গে আয়েশা আকতারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং এ ব্যাপারে দুই পরিবারই জানতেন। কিছু বখাটের তাকে সামনা সামনি বা ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। অথচ বিয়ের পরেও আয়েশার ওপর হয়রানি বন্ধ হয়নি। একদিন রিফাতের সাথে ওই যুবকের রাস্তায় কথা কাটাকাটি হয়। ২৬শে জুন ২০১৯ তারা এই সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে থেকে তিনজনকে চিনতে পারেন আয়েশা আক্তার। তখন রিফাতের নিথর দেহ হাসপাতালের মর্গে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার। ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকালে খুনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রোকন বড়ুয়ার ভাই শিবু বড়ুয়ার স্ত্রী রিকু বড়ুয়া ও তার বাড়িতে থাকা টমটম (ই-বাইক) ড্রাইভারের দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছেন। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে উভয়ের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। এছাড়া চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারে রিকু বড়ুয়ার ৫ বছরের কন্যা সনি বড়ুয়া খুন হলেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে হত্যাকান্ড সম্পর্কে গণমাধ্যমে একনাগাড়ে সাক্ষাতকার দিচ্ছিলেন। নিজের মেয়ে খুন হওয়ার পরও এভাবে শক্ত মানসিকতা নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলা একজন মা হয়ে রিকা বড়ুয়ার কাছে কিভাবে সম্ভব হলো তা সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) -এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার শিকার। ৭ অক্টোবর ২০১৯ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে তার জড়িত থাকা নিয়ে সন্দেহ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২২ বছর বয়সী ছাত্রকে তার সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে আক্রমণ করা হয়েছিল, যা ভারতের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির সমালোচনা মাত্র।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে। ছোট্ট শিশুর নাম তুহিন মিয়া। বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। ১৪ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার সকালে কান ও যৌনাঙ্গ কাটা অবস্থায় তুহিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে ছোট্ট শিশুটিকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করল কারা? নির্মম-নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের নিষ্ঠুরতায় পাগলপ্রায় অবস্থা বাবা কৃষক আবদুল বাছির ও মা মনিরা বেগম। প্রতিপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। কে বা কারা, কখন, কীভাবে তাকে হত্যার করেছে এমন প্রশ্নের উত্তর মমিলছে না। কদম গাছের ডালে ঝুলছিল তুহিনের নিথর দেহ। পেটে ঢোকানো ছিল দুটি লম্বা ছুরি। তার দুটি কান ও যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় তুহিনের পরিবারের লোকজন জড়িত।
নুসরাত- রিফাত- ফোর মার্ডার- আবরার ও তুহিন হত্যার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সচেতন মহল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান। যার ফলে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই মামলাগুলোর প্রতি সবার দৃষ্টি আছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য হত্যাকাণ্ডের মামলা এক রকম নয়।
দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কার ভূমিকা কি!
পুলিশ অফিসারের রিপোর্টঃ- বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বলা আছে, অপরাধ সংঘটিত হইলে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই প্রতিটি তদন্ত সমাপ্ত করিতে হইবে। যেহেতু পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেবার ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচার কার্যক্রম আরম্ভ হইবে। সুতরাং পুলিশ যখন দ্রুত তদন্ত শেষ করবে তখন বিচার কাজও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
আদালতে সাক্ষী দেওয়াঃ- মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য আদালতের কার্যক্রমের ধীরগতিকেই অনেক বিচারপ্রার্থী দায়ী করেন। একটি মামলা দ্রুত শেষ হওয়ার জন্য শুধু আদালতের ভূমিকাই যথেষ্ট নয়, সাক্ষীরা সবাই উদ্যোগী হয়ে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিলে স্বল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তি অনিবার্য। সাক্ষী না আসলে একতরফা মামলার রায় দেয়া যায় না। কিছু কিছু মামলার ক্ষেত্রে বিষয় গুলো এক রকম নয়। যদি সাক্ষীরা আদালতে আসার পর যদি সাক্ষ্য না নেয়া হয় তাহলে তারা সাক্ষ্য দেবার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে বিচারকের চেয়ে প্রসিকিউটরদের ভূমিকা বেশি জোরালো হওয়া উচিত।
বিচার প্রার্থীর ভোগান্তিঃ- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শুন্য পদে সময় মতো বিচারক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে ও বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হোক।
এক বছরে মামলা নিষ্পত্তিঃ- খুন-হত্যা-ধর্ষণের মত ঘটনা গুলো সরকারি নজরদারি করে এক বছরে মামলা নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের দাবী। এই ভাবে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আনা হলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবার আশাবাদী। যেমন নুসরাত হত্যার মামলা ৬-৭ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। যেহেতু পুলিশ দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিধায় বিচার কাজ সম্পন্ন করতে আদালত সক্ষম হয়েছে। তদ্রুপ প্রতিটি খুন-হত্যা-ধর্ষণের মত অপরাধের ঘটনার মামল দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরী।
উপসংহারঃ- বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সংগত কারণেই উদ্বেগ ও আশঙ্কা আছে। কিন্তু কিছু ঘটনার বিষয় কি আসলেই বিচ্ছিন্ন, কোথাও কি এসব বিষয় একটি জায়গায় মিলিত হয়? আলাদাভাবে বিবেচনা করে কি এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব?
লেখক পরিচিতি: ইউছুফ আরমান
কলামিষ্ট, সাহিত্যিক
শিক্ষানবিশ আইনজীবী,ফাজিল, কামিল
বি.এ অনার্স, এম.এ, এল.এল.বি
দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী, বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়
০৬ নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার
০১৬১৫-৮০৪৩৮৮ yousufarman@gmail.com

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রংপুরে যুব ঋণের চেক বিতরণ

» সাঁথিয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস পালিত

» বিয়ে করলেন গুলতেকিন

» ইসলামাবাদে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন

» উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হলেন সজীব ওয়াজেদ

» লামায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

» হরতালের ডাক দিবেন কংগ্রেস চেয়ারম্যান- কাজী ছাব্বীর

» পাহাড়ে কোন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ্য করা হবে না : পার্বত্যমন্ত্রী

» লামায় মসজিদের ইমাম নিয়ে দ্বন্দ্বে আহত- ৪

» বান্দরবানে প্রেস ইনস্টিটিউটের তিনদিনব্যাপি সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত: সনদ বিতরণ

সম্পাদক: অমিত চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ শিলু পারভেজ
আন্তর্জাতিক সম্পাদক: এস এম মেহেদী

প্রধান কার্যালয়ঃ কালিয়াকৈর, গাজীপুর, বাংলাদেশ।

শাখা অফিসঃ  গোড়াই , মির্জাপুর , টাংগাইল, বাংলাদেশ ।

Mob: 01711113657,01611117887 bangladeshdainik@gmail.com

www.bangladeshdainik.com

Desing & Developed BY ZihadIT.Com
,

অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে বিচার বিভাগের দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি অপরিহার্য


ইউছুফ আরমান
বর্তমান দেশের পরিস্থিতি খুব নাজুক। খুন-হত্যা-ধর্ষণ নিত্য দিনের ঘটনা। অথচ মানুষের আবেগ আর বিবেক লোপ পেয়েছে। মানুষের মনে হিংস্রতা এবং নৃশংসতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে মানুষের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যা কোন সভ্য সমাজের কাম্য বা প্রত্যাশা হতে পারে না। সম্প্রতিক ২০১৯ সালের আলোচিত ঘটনা নিয়ে আমার লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।
নুসরাত জাহান রাফি একজন বাংলাদেশী বালিকা, ৬ই এপ্রিল২০১৯ পরীক্ষা দিতে গেলে কয়েকজন বোরকা পড়া ব্যক্তি নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ই এপ্রিল বুধবার নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। ফেনীর সোনাগাজীতে একটি মাদ্রাসায় আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনাপ্রবাহ চারটি বিষয় সামনে এনেছে: এক নারীর যৌন নিপীড়ন, মাদ্রাসার ভেতরে অধ্যক্ষের দ্বারা ছাত্রীর যৌন নিপীড়ন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বহীন ভূমিকা এবং স্থানীয় রাজনীতির কলুষিত বৃত্তচক্র। এর প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে আমাদের মনোযোগ দাবি করে।
রিফাতের সঙ্গে আয়েশা আকতারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং এ ব্যাপারে দুই পরিবারই জানতেন। কিছু বখাটের তাকে সামনা সামনি বা ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। অথচ বিয়ের পরেও আয়েশার ওপর হয়রানি বন্ধ হয়নি। একদিন রিফাতের সাথে ওই যুবকের রাস্তায় কথা কাটাকাটি হয়। ২৬শে জুন ২০১৯ তারা এই সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে থেকে তিনজনকে চিনতে পারেন আয়েশা আক্তার। তখন রিফাতের নিথর দেহ হাসপাতালের মর্গে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার। ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকালে খুনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রোকন বড়ুয়ার ভাই শিবু বড়ুয়ার স্ত্রী রিকু বড়ুয়া ও তার বাড়িতে থাকা টমটম (ই-বাইক) ড্রাইভারের দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছেন। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে উভয়ের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। এছাড়া চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডারে রিকু বড়ুয়ার ৫ বছরের কন্যা সনি বড়ুয়া খুন হলেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে হত্যাকান্ড সম্পর্কে গণমাধ্যমে একনাগাড়ে সাক্ষাতকার দিচ্ছিলেন। নিজের মেয়ে খুন হওয়ার পরও এভাবে শক্ত মানসিকতা নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলা একজন মা হয়ে রিকা বড়ুয়ার কাছে কিভাবে সম্ভব হলো তা সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) -এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার শিকার। ৭ অক্টোবর ২০১৯ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে তার জড়িত থাকা নিয়ে সন্দেহ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২২ বছর বয়সী ছাত্রকে তার সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে আক্রমণ করা হয়েছিল, যা ভারতের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির সমালোচনা মাত্র।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে। ছোট্ট শিশুর নাম তুহিন মিয়া। বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। ১৪ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার সকালে কান ও যৌনাঙ্গ কাটা অবস্থায় তুহিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে ছোট্ট শিশুটিকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করল কারা? নির্মম-নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের নিষ্ঠুরতায় পাগলপ্রায় অবস্থা বাবা কৃষক আবদুল বাছির ও মা মনিরা বেগম। প্রতিপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। কে বা কারা, কখন, কীভাবে তাকে হত্যার করেছে এমন প্রশ্নের উত্তর মমিলছে না। কদম গাছের ডালে ঝুলছিল তুহিনের নিথর দেহ। পেটে ঢোকানো ছিল দুটি লম্বা ছুরি। তার দুটি কান ও যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় তুহিনের পরিবারের লোকজন জড়িত।
নুসরাত- রিফাত- ফোর মার্ডার- আবরার ও তুহিন হত্যার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সচেতন মহল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান। যার ফলে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই মামলাগুলোর প্রতি সবার দৃষ্টি আছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য হত্যাকাণ্ডের মামলা এক রকম নয়।
দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কার ভূমিকা কি!
পুলিশ অফিসারের রিপোর্টঃ- বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বলা আছে, অপরাধ সংঘটিত হইলে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই প্রতিটি তদন্ত সমাপ্ত করিতে হইবে। যেহেতু পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেবার ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচার কার্যক্রম আরম্ভ হইবে। সুতরাং পুলিশ যখন দ্রুত তদন্ত শেষ করবে তখন বিচার কাজও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
আদালতে সাক্ষী দেওয়াঃ- মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য আদালতের কার্যক্রমের ধীরগতিকেই অনেক বিচারপ্রার্থী দায়ী করেন। একটি মামলা দ্রুত শেষ হওয়ার জন্য শুধু আদালতের ভূমিকাই যথেষ্ট নয়, সাক্ষীরা সবাই উদ্যোগী হয়ে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিলে স্বল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তি অনিবার্য। সাক্ষী না আসলে একতরফা মামলার রায় দেয়া যায় না। কিছু কিছু মামলার ক্ষেত্রে বিষয় গুলো এক রকম নয়। যদি সাক্ষীরা আদালতে আসার পর যদি সাক্ষ্য না নেয়া হয় তাহলে তারা সাক্ষ্য দেবার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে বিচারকের চেয়ে প্রসিকিউটরদের ভূমিকা বেশি জোরালো হওয়া উচিত।
বিচার প্রার্থীর ভোগান্তিঃ- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শুন্য পদে সময় মতো বিচারক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে ও বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হোক।
এক বছরে মামলা নিষ্পত্তিঃ- খুন-হত্যা-ধর্ষণের মত ঘটনা গুলো সরকারি নজরদারি করে এক বছরে মামলা নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের দাবী। এই ভাবে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আনা হলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবার আশাবাদী। যেমন নুসরাত হত্যার মামলা ৬-৭ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। যেহেতু পুলিশ দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিধায় বিচার কাজ সম্পন্ন করতে আদালত সক্ষম হয়েছে। তদ্রুপ প্রতিটি খুন-হত্যা-ধর্ষণের মত অপরাধের ঘটনার মামল দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরী।
উপসংহারঃ- বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সংগত কারণেই উদ্বেগ ও আশঙ্কা আছে। কিন্তু কিছু ঘটনার বিষয় কি আসলেই বিচ্ছিন্ন, কোথাও কি এসব বিষয় একটি জায়গায় মিলিত হয়? আলাদাভাবে বিবেচনা করে কি এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব?
লেখক পরিচিতি: ইউছুফ আরমান
কলামিষ্ট, সাহিত্যিক
শিক্ষানবিশ আইনজীবী,ফাজিল, কামিল
বি.এ অনার্স, এম.এ, এল.এল.বি
দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী, বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়
০৬ নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার
০১৬১৫-৮০৪৩৮৮ yousufarman@gmail.com

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাদক বিরোধী ও সমাজকল্যান মূলক সংগঠন ড্রীমক্লাবের সাথে যুক্ত হন

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক: অমিত চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ শিলু পারভেজ
আন্তর্জাতিক সম্পাদক: এস এম মেহেদী

প্রধান কার্যালয়ঃ কালিয়াকৈর, গাজীপুর, বাংলাদেশ।

শাখা অফিসঃ  গোড়াই , মির্জাপুর , টাংগাইল, বাংলাদেশ ।

Mob: 01711113657,01611117887 bangladeshdainik@gmail.com

www.bangladeshdainik.com

Design & Developed BY ZahidITLimited