বড়াইগ্রামে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আনন্দ স্কুল

সুজন কুমার, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি :

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়া-গাঁয়ের দরিদ্র, স্কুল বহির্ভুত, সুবিধা বঞ্চিত ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া শত-শত শিশুদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করে তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ-২ প্রকল্পাধীন আনন্দ স্কুল। স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে রস্ক প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মো. ওছমান গনি সরকার সহ চার জন মোবাইল পুল শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান, মো. আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুর রাজ্জাক। এ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে বড়াইগ্রামে ৪৯টি আনন্দ স্কুল। স্কুলগুলোতে লেখা-পড়া করে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী হতদরিদ্র পরিবারের ১১১৭ জন শিশু। তাদের কারো বয়স আবার ১৫ বা তদুর্ধে। স্কুল বহির্ভুত ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া শত-শত এসব শিশুদের পিতা-মাতাকে বুঝিয়ে  পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। এসব শিশুরা ২০১৪ সালে ভর্তি হয় প্রথম শ্রেনিতে। তারা সবাই এখন পঞ্চম শেণিতে অধ্যয়নরত এবং আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পরীক্ষার্থী। দারিদ্রতার কারণে জীবন যুদ্ধে সংসারের আয়-উপার্জনের জন্য অনেক শিক্ষার্থী লেখা-পড়ার পাশাপাশি কাজ করে অন্যের বাড়িতে, হোটেল-রেস্তোরাতে, মাঠে-ঘাটে আবার কেউবা চালায় রিক্সা কেউবা করে হকারী।

বড়াইগ্রাম মাদ্রাসাপাড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী ফাতেমা (১৪), সোহেল রানা (১৪) তিরাইল আনন্দ স্কুলের বন্যা খাতুন (১৫) জানায় স্কুলে লেখা-পড়ার পাশাপাশি অন্যের রশুন ও মুগ কালাই সংগ্রহ সহ অন্যান্য কাজ করে উপার্জিত অর্থ পিতা-মাতার হাতে তুলে দেয়।  তিরাইল আনন্দ স্কুলের পিতৃহারা শিক্ষার্থী মামুন (১৫) জানায়, রিক্সা চালিয়ে গত ১৫ দিনে উপার্জন করে মায়ের হাতে তুলে দিয়েছি দুই হাজার টাকা। এ দুই স্কুলের চার শিক্ষার্থীই দ্বিতীয় শ্রেণী থেকেই ঝরে পড়ে একসময়। আবারও ভর্তি হয় আনন্দ স্কুলে। অন্যদের মতো লেখা-পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে এখন তারাও। বড়াইগ্রাম উপজেলার আগ্রান আনন্দ স্কুলে দেখা যায়, শ্রেনিতে পাঠ দিচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা লিপি খাতুন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ পাশ।  তিনি জানান, স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জন। অসুস্থতার কারণে ১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। তবে সে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ছুটির দিন ব্যতিত আনন্দ স্কুলগুলো চলে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বই সরবরাহ করে উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং স্কুল ড্রেস, উপবৃত্তি ও  সকল প্রকার শিক্ষা উপকরণ বিনা মূল্যে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট রস্ক প্রকল্প। এছাড়া শিক্ষায় গতিশীলতা আনার জন্য ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলায় কর্মরত চার জন মোবাইল  পুল শিক্ষক প্রতিনিয়ত বিকল্প শিক্ষক হিসেবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করণে শিক্ষকদের সহায়তা, শ্রেণী কক্ষে শিখণ পদ্ধতি অবলোকন এবং স্কুল পরিদর্শন ইত্যাদি কাজ করে যাচ্ছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ১৪ হাজার ইয়াবাসহ পটিয়া থেকে সেনাসদস্য আটক

» চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

» একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপার

» ২১ ফ্রেরুয়ারী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী করলো ঈদগাঁও বিএনপি

» মালুমঘাট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের নিচে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল!

» চকরিয়ায় সালিশকার যখন মামলার আসামী!

» ইডিইউতে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ভিসি সিকান্দার:ভাষার মৌলিকত্ব ধরে রাখতে হবে

» রংপুরে কলেজছাত্রী রুবি হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

» শহীদ মিনার না থাকায় কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন

» ঈদগাহ রিপোর্টার্স সোসাইটির একুশের সভায় বক্তারা….. সাংবাদিকরা সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার

উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Desing & Developed BY ZihadIT.Com
,

বড়াইগ্রামে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে আনন্দ স্কুল

সুজন কুমার, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি :

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়া-গাঁয়ের দরিদ্র, স্কুল বহির্ভুত, সুবিধা বঞ্চিত ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া শত-শত শিশুদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করে তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) ফেইজ-২ প্রকল্পাধীন আনন্দ স্কুল। স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে রস্ক প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মো. ওছমান গনি সরকার সহ চার জন মোবাইল পুল শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান, মো. আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুর রাজ্জাক। এ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে বড়াইগ্রামে ৪৯টি আনন্দ স্কুল। স্কুলগুলোতে লেখা-পড়া করে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী হতদরিদ্র পরিবারের ১১১৭ জন শিশু। তাদের কারো বয়স আবার ১৫ বা তদুর্ধে। স্কুল বহির্ভুত ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া শত-শত এসব শিশুদের পিতা-মাতাকে বুঝিয়ে  পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। এসব শিশুরা ২০১৪ সালে ভর্তি হয় প্রথম শ্রেনিতে। তারা সবাই এখন পঞ্চম শেণিতে অধ্যয়নরত এবং আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পরীক্ষার্থী। দারিদ্রতার কারণে জীবন যুদ্ধে সংসারের আয়-উপার্জনের জন্য অনেক শিক্ষার্থী লেখা-পড়ার পাশাপাশি কাজ করে অন্যের বাড়িতে, হোটেল-রেস্তোরাতে, মাঠে-ঘাটে আবার কেউবা চালায় রিক্সা কেউবা করে হকারী।

বড়াইগ্রাম মাদ্রাসাপাড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী ফাতেমা (১৪), সোহেল রানা (১৪) তিরাইল আনন্দ স্কুলের বন্যা খাতুন (১৫) জানায় স্কুলে লেখা-পড়ার পাশাপাশি অন্যের রশুন ও মুগ কালাই সংগ্রহ সহ অন্যান্য কাজ করে উপার্জিত অর্থ পিতা-মাতার হাতে তুলে দেয়।  তিরাইল আনন্দ স্কুলের পিতৃহারা শিক্ষার্থী মামুন (১৫) জানায়, রিক্সা চালিয়ে গত ১৫ দিনে উপার্জন করে মায়ের হাতে তুলে দিয়েছি দুই হাজার টাকা। এ দুই স্কুলের চার শিক্ষার্থীই দ্বিতীয় শ্রেণী থেকেই ঝরে পড়ে একসময়। আবারও ভর্তি হয় আনন্দ স্কুলে। অন্যদের মতো লেখা-পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে এখন তারাও। বড়াইগ্রাম উপজেলার আগ্রান আনন্দ স্কুলে দেখা যায়, শ্রেনিতে পাঠ দিচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা লিপি খাতুন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ পাশ।  তিনি জানান, স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জন। অসুস্থতার কারণে ১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। তবে সে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ছুটির দিন ব্যতিত আনন্দ স্কুলগুলো চলে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বই সরবরাহ করে উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং স্কুল ড্রেস, উপবৃত্তি ও  সকল প্রকার শিক্ষা উপকরণ বিনা মূল্যে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট রস্ক প্রকল্প। এছাড়া শিক্ষায় গতিশীলতা আনার জন্য ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলায় কর্মরত চার জন মোবাইল  পুল শিক্ষক প্রতিনিয়ত বিকল্প শিক্ষক হিসেবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করণে শিক্ষকদের সহায়তা, শ্রেণী কক্ষে শিখণ পদ্ধতি অবলোকন এবং স্কুল পরিদর্শন ইত্যাদি কাজ করে যাচ্ছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মেইল:bddainik@gmail.com
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Design & Developed BY ZahidITLimited