আজ ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং

বর্তমান ‌দে‌শি বি‌দে‌শি প্রেক্ষাপট

ইমরুল সা‌হেদঃ

 

পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যেমন তেল, সোনা, রাবার, কয়লা, সিলভার, কটনের মত সম্পদের ৫১% অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি সম্পদ হচ্ছে মুসলমানদের করতলে। পৃথিবীর মোট ৫০টি দেশ মুসলমান শাসকদের অধীনে। জন সংখ্যার দিক দিয়ে ওয়ান ফোর্থ অর্থাৎ ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫০ কোটি জন হচ্ছে মুসলমান।

 

অথচ সেই সমৃদ্ধ জাতিই আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জুতার বাড়ি খাওয়া, লাথি খাওয়া, অনাহার অর্ধাহারে থাকা, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, নিগৃহীত, স্বাধীনতা বঞ্চিত, নিষ্পেষিত, নির্যাতিত, লুন্ঠিত, লাঞ্চনা বঞ্চনার শিকার। ফিলিস্তিন, কাশ্মির, মিয়ানমার, চেচেনিয়া, চীন, পাকিস্তান সব দেশে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। কেন?

 

এর মূল কারণ তিনটা।

 

আমাদের দেশে এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ, অল্প শিক্ষিত, বিস্তারিত ইসলামী জ্ঞান বর্জিত, গ্রুপিং নিয়ে ব্যস্ত আলেম ওলামা আছেন, যারা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে রাতের পর রাত মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করেন, কেঁদে কেটে ভান করে কতগুলো কেচ্ছা কাহিনী শুনিয়ে শিক্ষিত সমাজের কাছে হাসির পাত্র হন। এরা এক অর্থে ইসলামের ক্ষতিকারক।

 

১. তিন কারণের প্রথম কারণ হচ্ছে, আমরা ইসলামকে মনে করেছি এটি একটি শুধুমাত্র ধর্মীয় গতানুগতিক রীতিনীতি, যা সম্পূর্ণ মারাত্নক ভুল ধারণা।

 

পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ সিস্টেম একমাত্র ইসলাম ছাড়া। ইসলাম হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা যেখানে একজন শিশুর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিধি নিষেধ, নিয়ম কানুনের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

ইসলাম কোন খন্ডিত জীবনের অংশ নিয়ন্ত্রণ করে না, সমস্ত মানব জীবনকেই নিয়ন্ত্রণ করে। কেউ কখনো বলতে পারবে না, ইসলামের সহী শুদ্ধ নিয়ম নীতিগুলো ব্যাক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।

 

ছাগলের মত গলায় রশি দিয়ে সে নিয়ম মানুষের গলায় বেঁধে দেওয়া হয় নি। মানুষকে দেওয়া হচ্ছে বুদ্ধি, বিবেক, জ্ঞান এবং মনুষত্ব।

 

কেউ ঘুষ খাবে আবার নামাজ আদায় করবে, কেউ সুদ খাবে আবার হজ্ব পালন করবে, কেউ মানুষ হত্যা করবে আবার যাকাত দেবে, কেউ মিথ্যা বিচার করবে আবার রোজা রাখবে, সেই সিস্টেম ইসলামে নাই।

 

সুতরাং আমরা মুসলমানরা খন্ডিত ইসলাম পালনে অভ্যস্থ হয়েছি বলে আমরা কেন্দ্র থেকে দূরে সরে এসেছি।

 

২. কুরয়ান শব্দের অর্থ সর্বাধিক পঠিত, পঠনযোগ্য। এর অপর নাম কিতাব যার অর্থ লিখা।

কুরয়ান শরীফকে আমরা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে দেখি। প্রশ্ন হচ্ছে যদি এখানে শুধুমাত্র নামাজ, রোযা, হজ্ব, যাকাতের কথাই লিখা থাকত তবে কি এক পারাতেই সীমাবদ্ধ রাখা যেত না? ৩০ পারার বৃহৎ পুস্তক হল কেন?

 

কুরয়ান হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পঠিত এবং সবচেয়ে বেশি প্রিন্ট হওয়া পুস্তক, কিতাব, মহা মূল্যবান বই। কিন্তু পড়া হলেও সেই কুরয়ানকে আমরা বিশ্লেষণ করি না। অথচ কুরয়ান আল্লাহর শেষ কথা পৃথিবীবাসীর জন্য। এরপরে আল্লাহ আর কোন কথা আমাদের জন্য বলেন নি, বলবেন না। কারণ এখানেই সমস্ত সৃষ্টির ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আল্লাহর পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে, আইন-কানুন-বিজ্ঞান-দর্শন-সমাজতন্ত্র-শাসন-প্রার্থনাকে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর হেফাজত করবেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।

 

কুরয়ান শুধু মুসলমানের জন্য নয়, এটি মানব গোষ্ঠির জন্য হেদায়েত গ্রন্থ। কাউকে বলা হয়নি এটি পড়া নিষেধ, ধরা নিষেধ, যেমন আল্লাহ সকল সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা শুধু মুসলমানের নয়।

 

কুরয়ানে বলা হয়নি মন্দির ভাঙ্গ, মূর্তি ভাঙ্গ। বলা হয়েছে অন্য ধর্মের লোকদের, তাদের আচারকে সম্মান কর এবং তাদেরকে ইসলামের সুফল প্রচার কর এবং আল্লাহর দিকে আহবান কর।

 

কিন্তু চুমো দিয়ে, সেলফের ঊর্দ্ধে কুরয়ানকে রেখে আমরা একে বন্দী করে রেখেছি। কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যেতে যেতে খাদে পড়ে গিয়েছি।

 

৩. হযরত মুহাম্মদ (সা:)কে আমরা মনে করেছি শুধুমাত্র একজন ধর্মীয় নেতা।

 

আসলেই কি তাই?

 

আল্লাহ তাঁর রাসূলকে শুধুমাত্র মুসলমানের নেতা বানান নাই। আল্লাহ বলেন, হে নবী বলুন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল মানুষের জন্য মানবতার নবী, দূত হিসেবে এসেছি।

 

* মুহাম্মদ (সা:) মানুষের অধিকার নিশ্চিত করছেন।

* শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করেছেন।

* মা বাবার মর্যাদা নিশ্চিত করেছেন।

* শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করেছেন।

* সমাজের ধনী গরীবের বৈষম্য দূরীকরণ করেছেন।

* নারীর অধিকার ও সম্মানকে নিশ্চিত করেছেন।

* কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গের মর্যাদা সমান করেছেন।

* কুরয়ান, হাদীসের সুষ্পষ্ট লিখিত বিধান দিয়ে গেলেন।

 

এই ইসলাম মরুর বুকের যাযাবরকে শাসক বানিয়েছে, মেষ পালককে বিচারক বানিয়েছে। এগুলো উদাহরণ, শিক্ষা নেওয়ার বিষয়।

 

এগুলো সবই দৃষ্টান্ত। ইসলামকে যারা সেকেলে মনে করেন, মধ্য যুগীয় বর্বরতা মনে করেন, এরা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আর যারা বোমাবাজি করে, অন্য ধর্ম এবং ভিন্ন মতাদর্শী গোত্রকে গলা কেটে ইসলামকে কায়েম করতে চাইছেন, তারা পাগলেও চেয়েও অধম, ধর্মান্ধ এবং বিপথগামী।

 

সবশেষ, আল্লাহ বলেন, আমি কোনোতির ভাগ্যকে পরিবর্তন করি না, যতক্ষণ না তারা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Shares