আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

শেষ পর্ব, অসম প্রেমের বিসর্জন

ডা. সুলতানা পারভীন রুমা

জামিলা হতাশ বারবার শুধু দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে, কি ভেবেছিলো আর এটা কি হলো? দেখতে দেখতে আবিদের সাথে অনেক  বছর  কেটে গেলো তার  ঘর সংসার, আবিদ ও তার ভালোবাসায় বিভোর ছিলো,দেখতে ফুলের মতো তাই  ভালোবেসে জামিলার নাম রেখেছিল  ফুলি, ফুলি করেই ডাকতো, সব কিছু ভুলে জামিলা তার হয়ছিলো,  দুজনার বয়সের ব্যবধানে মানুষের কাছে অপমানিত হতে হতো  আর এসব শুনতে আবিদের লজ্জা লাগে, তাই জামিলার ঘরের বাহিরে যাওয়া নিষেধ ছিলো, যা কিছু করার আবিদই দেখা শুনা করতো, আর জামিলাও সরল বিশ্বাসে আবিদের উপরে সব ভার ছেড়ে দিয়ে এখন দিশেহারা, প্রথম প্রথম খুব ভালোবাসতো  ,ব্যবসার কথা বলে বলে জামিলার সব জায়গা বিক্রি করে  দিয়েছে, জামিলা এখন বুঝে গেছে তার আসল চেহারা,  জুয়া খেলে আর নেশা খেয়েই সব  শেষ,  দুইদিন হয় কোথা থেকে ১৫/১৬ বছরের একটা মেয়ে বিয়ে করে  নিয়ে এসছে, পাশের ঘর থেকে  দিনরাত শুধু খাটের ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ আর মেয়ের গোঙ্গানি, খুব আত্ব তৃপ্তি নিয়ে আবিদ ঘড় থেকে বের হয়, জামিলা একা ঘরে পড়ে থাকে আর চোখের পানি ফেলে, বড্ড বেশি ভুল হয়ে গেছে, কিন্তু এসব ভেবে আর কি লাভ?  ততদিনে সবি শেষ,  আর এক চিলতে জায়গা আছে সেটা  লিখে না দেওয়ার জন্যই হয়ত এ শাস্তি, আবার ভাবে জার যাবার সেতো যাবেই, জমি লিখে দিলেও যাবে না দিলেও যাবে,   জামিলার চিন্তায় নানান রোগ ধরেছে, কারো সাথে যুদ্ধকরে আর পারা সম্ভব নয়,  যার জুয়া , নেশা ,আর মেয়ের লোভ থাকে তার কাছে পাবার আর কি আছে?   , ছেলেমেয়ের জায়গা জমির  যে ভাগ তারা মামলা করে তাদেরটা বুঝে নিয়েছে, ভুলাক্ষরেও বুঝতে পারেনি   আবিদ তাকে এতবড় শাস্তি দিবে? আমার অপরাধ টা কি?  আমিতো কেবল তাকে ভালোবেসেছিলাম, তাহলে এতবড় শাস্তি আল্লাহ আমাকে  কেন দিল? ছেলেমেয়ের কথা খুব মনে পড়ে,  কতদিন তাদের দেখিনা?  কিন্তু তাদের কাছে যাবার মুখ জামিলার নেই, কোন দিকেই রাস্তা খোলা রাখেনি আবিদ। সব  শেষ করে এখন  আমাকে বের করে দেবার এটাই তার শেষ কৌশল , আমি সব বুঝি,এসব ভেবেই সারারাত জামিলা চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছে, পাশের ঘর থেকে শুধু মাঝমাঝে হাসির আওয়াজ জামিলার কানে আসছে, থাক সবাই ভালো থাক আমিই খারাপ?  বুকের ভীতর অজানা যন্ত্রণা ধারন করে খুব ভোরে জামিলা  কাউকে কিছু না বলে অজানা উদ্দ্যেশে পাড়ি জমায়।

 

 

প্রিয় পাঠকরা, আমার গল্পটা শেষ করার আগে কিছু কথা আপনাদের বলতে চাই, এই গল্পটা একটা বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে,  যেটাকে মাথায় সাজিয়ে আমি গল্পটা লিখতে বসেছিলাম, এর বাস্তব কাহিনী আরো ভয়াবহ ছিলো,শেষমেশ জামিলাকে রেলস্টেশনের এক কামরায় মানুষের দয়া দাক্ষিণ্যর উপরে চলতে হয়েছিলো। এই যে যারা ভিক্ষা করে তাদের কাছে শুনবেন, নানান চড়াই উতড়াই পাড় করে তারপর এই পেশায় নামছে , জামিলা ছিলো তার একটি উদাহরণ, এবং আরো কিছু উপলব্ধি হয়েছে আমার যেমন, আমি পয়েন্ট দিয়ে সেসব আপনাদের জানাচ্ছি ১, পৃথিবীতে বাবা, মা,ভাই,বোন, সসন্তান সব কিছুর উর্ধে ভালোবাসা, , ২ অল্প বয়সী ছেলে বা মেয়ের সাথে এমন সম্পর্কে জড়ালে এর পরিণতি ভালো হয়না,  ৩,যত বরই কোটি পতি হোক ফকির হতে বেশি সময় লাগেনা, এই ৩টি মেসেজ মানুষ কে জানানোর জন্য আমার এই লিখাটা শুরু করেছিলাম, এখানে গল্পের কাহিনী বুঝানোর সার্থে কিছু উত্তেজিত কথা ব্যবহার করেছি কারন গল্পের পুরো ইনভার্মেন্ট সাজানোর সার্থে এটা দরকার হয়ে পড়েছিলো, তবে  তার জন্য ক্ষমা চাইছি,  আপনাদের কেমন লাগলো তা জানাবেন, এবং আপনাদের সমর্থন থাকলে আবারো গল্প লিখতে বসবো, বাস্তব কোন কাহিনী নিয়ে, আমার জন্য দোয়া করবেন, ভালো থাকবেন সবাই ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
Shares