যুদ্ধ নয়, আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তিনি যে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তার মাধ্যমেই চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না…আমরা বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) অনুদান গ্রহণকালে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুদানের চেক হস্তান্তরের এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খবর বাসস।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার চার লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে বহন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানবিক বিপর্যয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের দায়িত্ব…রোহিঙ্গাদের বিপর্যয়ের সময় আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াতাম তবে তা অমানবিক হতো।’

দুস্থ মানবতার সহায়তায় এগিয়ে আসায় বিএবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএবি মানবকল্যাণে সব সময়ই তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা সাম্প্রতিক বন্যার সময়ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ তারা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার কথা স্মরণ করে বলেন, রোহিঙ্গারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের মতো বর্বরতার শিকার। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ কোটি মানুষ শরণার্থী এবং ৩ কোটি মানুষ গৃহহীন হয়।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর এবং তার ছোট বোনের শরণার্থী জীবনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৬ বছর শরণার্থী হিসেবে থাকার কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের দুঃখ ও যন্ত্রণা বুঝি।’

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সব শ্রেণির মানুষের এগিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের মানুষ মানবতাবোধ সম্পন্ন। তারা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সহায়তা নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে তাদের জন্য বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত ৫ দফা প্রস্তাব হলো—
১. মিয়ানমারকে অবশ্যই বিনা শর্তে রাখাইন রাজ্যে দ্রুত ও চিরতরে সহিংসতা ও জাতিগত নিধন বন্ধ করতে হবে
২. জাতিসংঘ মহাসচিবকে দ্রুত মিয়ানমারে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে
৩. ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে মিয়ানমারের সব নাগরিকের সুরক্ষা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলতে হবে
৪. বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে
৫. কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অবশ্যই বিনা শর্তে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» “সারা বিশ্ব হোক সাংবাদিকদের নিরাপদ স্থান” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্টিত

» ‘সংগ্রাম’ সম্পাদক আবুল আসাদ ৩ দিনের রিমান্ডে

» উদ্দমতা

» নতুন প্রজম্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে : ডিসি কামাল হোসেন

» সাঁথিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

» আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না: শেখ হাসিনা

» নারায়নগঞ্জের ফটো সাংবাদিককে মারধর করে ছিনতাইকালে আটক :২

» শ্রমিকদের নূন্যতম বেতন পনের হাজার টাকা নির্ধারনের দাবী জানিয়ছেন এনসিবি’র চেয়ারম্যান- কাজী ছাব্বীর।

» পদ্মা সেতুর ২৭০০ মিটার দৃশ্যমান

» লামায় ৪১তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা শুভ উদ্বোধন

উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Desing & Developed BY ZihadIT.Com
,

যুদ্ধ নয়, আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তিনি যে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তার মাধ্যমেই চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না…আমরা বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) অনুদান গ্রহণকালে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুদানের চেক হস্তান্তরের এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খবর বাসস।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার চার লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে বহন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানবিক বিপর্যয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের দায়িত্ব…রোহিঙ্গাদের বিপর্যয়ের সময় আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াতাম তবে তা অমানবিক হতো।’

দুস্থ মানবতার সহায়তায় এগিয়ে আসায় বিএবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএবি মানবকল্যাণে সব সময়ই তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা সাম্প্রতিক বন্যার সময়ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ তারা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার কথা স্মরণ করে বলেন, রোহিঙ্গারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের মতো বর্বরতার শিকার। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ কোটি মানুষ শরণার্থী এবং ৩ কোটি মানুষ গৃহহীন হয়।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর এবং তার ছোট বোনের শরণার্থী জীবনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৬ বছর শরণার্থী হিসেবে থাকার কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের দুঃখ ও যন্ত্রণা বুঝি।’

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সব শ্রেণির মানুষের এগিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের মানুষ মানবতাবোধ সম্পন্ন। তারা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সহায়তা নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে তাদের জন্য বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত ৫ দফা প্রস্তাব হলো—
১. মিয়ানমারকে অবশ্যই বিনা শর্তে রাখাইন রাজ্যে দ্রুত ও চিরতরে সহিংসতা ও জাতিগত নিধন বন্ধ করতে হবে
২. জাতিসংঘ মহাসচিবকে দ্রুত মিয়ানমারে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে
৩. ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে মিয়ানমারের সব নাগরিকের সুরক্ষা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলতে হবে
৪. বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে
৫. কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অবশ্যই বিনা শর্তে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা:নজরুল ইসলাম রানা
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল
নির্বাহী সম্পাদক :মো:রফিক উদ্দিন লিটন
বার্তা সম্পাদক :নিজাম উদ্দিন

অফিস: ১৫০ নাহার ম্যানশন, ৬ষ্ঠ তলা,মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,মতিঝিল ঢাকা।
মোবাইল :০১৫১৬১৭৭৩৮৫
কক্সবাজার অফিস :
সিফা ম্যানশন,বাস ষ্টেশন ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর।
মোবাইল :০১৮৫১২০০৭৯০/০১৬১০১১৭৯৭২

Design & Developed BY ZahidITLimited